যোগমায়া আচার্য
প্রকৃতির সাথে আত্মার মিশেল, আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে ভালোবাসার বিনিময়, সুস্বাদু খাবার ও অনন্দময় আলাপ— পিকনিক হলো সেই বিশেষ মুহূর্ত যা স্মৃতির মণিকোঠায় অমর হয়ে যায়। ঠিক এই সুন্দর মুহূর্তগুলোকেই উদ্যাপন করাই ১৮ জুন আন্তর্জাতিক পিকনিক দিবস-এর মূল উদ্দেশ্য।
প্রাচীনকাল থেকেই পিকনিক ছিল ঘরোয়া ও সামাজিক জীবনের অপরিহার্য অংশ। যে দিন সবাই ঘর ছাড়ে, বাইরে যায়, ঘাসে বসে ও প্রকৃতির স্পর্শে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে— সেই দিনটি হলো পিকনিক। আধুনিক জীবনের ঘরোয়া ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক রুটিনে পিকনিক হলো একটা সুন্দর ও স্বস্তির আশ্রয়, যা সবাইকে আবারও পরিবারের ও বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে সুযোগ করে দিতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশে পিকনিক একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্পেনে রয়েছে পাইয়া পিকনিক, জার্মানিতে রয়েছে গ্রিলিং পিকনিক, অপরদিকে জাপানে চেরিব্লসম পিকনিক অপরূপ ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে। আবার ভারত কিংবা বাংলাদেশের গ্রামে, নদীর ঘাটে বা উদ্যানে পিকনিক মানে কলরব, গান, হইচই ও হরেকরকম সুস্বাদু খাবার পরিবেশন হয় পরিবারের সবাইকে ঘিরে রেখে।
পিকনিক মানে হলো মানসিক চাপ হ্রাস, সম্পর্কগুলিকে আরও ঘন ও সুন্দর করে গড়ে তোলা ও নতুন স্মৃতি সৃষ্টি— যা অনেক দিন পর্যন্ত মনে গেঁথে থাকে। বাইরে খাবার খাওয়া, ঘুড়িতে হাওয়া দেওয়া, বল খেলা, গান গাওয়া বা শুধুই ঘাসে বসে কথা বলাই আত্মার জন্য অপরিবর্তনীয় ও সুন্দর ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
আজ আন্তর্জাতিক পিকনিক দিবসে সবাইকে অনুরোধ জানাই যে ঘরে আবদ্ধ না থেকে বাইরে বের হন, প্রকৃতির স্পর্শ উপভোগ করুন ও পরিবারের সাথে সুন্দর মুহূর্ত কাটান। পিকনিক হলো ভালোবাসা প্রকাশের, সম্পর্কগুলিকে নতুন করে ঝালাই করার ও জীবনকে আরও সুন্দর ও স্মরনীয় করার সুযোগ।
প্রকৃতির সাথে মিশে গেলে মানসিক চাপ অনেকটাই হ্রাস পায়। তাই পিকনিককে আত্মোন্নয়ন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার একটা উপায় হিসেবে গ্রহণ করাই যায়। বাইরে ঘোরা, হাওয়া খাওয়া ও ভালোবাসার স্পর্শে জীবন পায় নতুন উদ্যম ও উৎসাহ — ঠিক যেমন একটা পিকনিক সবাইকে আবারও সুন্দর ও কলরবে পরিপূর্ণ করে তোলে।
বিশ্বের অনেক দেশে পিকনিক একটা ঐতিহ্য ও উৎসবে পরিণত হয়েছে— যা প্রকাশ করে যে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও প্রকৃতির সাথে মিশে থাকতে চাইলে, সবাই পারে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে।

