চলচ্চিত্র নয়, সাহিত্য ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর তসলিমা নাসরিন ফের খবরের শিরোনামে। গত ৪ দিন আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন তিনি, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের মিলিয়ে যাওয়ার একটি প্রসঙ্গ তোলেন। সেই পোস্টটিকে ‘হেটফুল কন্টেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেসবুক তা সরিয়ে দেয় এবং তাঁর প্রোফাইলকেও সাময়িকভাবে রেস্ট্রিক্ট করে বলে জানা গেছে।
ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তসলিমা নিজেই। তিনি লিখেছেন,
“আজ সকালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মিলে যাওয়ার ওপর যে পোস্টটি দিয়েছিলাম, সেটি ফেসবুক এখন উঠিয়ে নিল, বললো ওটা নাকি হেটফুল কন্টেন্ট। যারা ঘৃণা করছে, তাদের ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দোষ হয় ঘৃণা করছি। যারা নৃশংসতা করছে, তাদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দোষ হয় নৃশংসতা করছি। যারা ধর্ষণ করছে, তাদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দোষ হয় ধর্ষণ করছি। যারা জিহাদ করছে, তাদের জিহাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দোষ হয় জিহাদ করছি। ফেসবুকের হয়েছেটা কী? মানবতার পক্ষে, নারীর অধিকারের পক্ষে, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কোনও কণ্ঠস্বরকে ফেসবুকের প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে দেবে না? ফেসবুক কি কেবল কট্টরপন্থীদের জন্য? শুধু হ্যাপি বার্থডে বলা মগজহীন লোকদের জন্য?”
তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তোলে। বহু মানুষ মন্তব্য করে তসলিমার পক্ষ নিয়েছেন এবং ফেসবুকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরেই নারী অধিকার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাঁর অনেক লেখা ও মত প্রকাশের জন্য আগেও তাঁকে বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে, এমনকি নিজের দেশ বাংলাদেশ ছেড়ে নির্বাসিত জীবনযাপন করতেও হয়েছে।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এ ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ার সেন্সরশিপ নীতি ও বাকস্বাধীনতার সীমা নিয়ে।
মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষাকারী আন্তর্জাতিক মহলও কি এ বিষয়ে মুখ খুলবে? তা সময়ই বলবে।


