পিয়া রায়
২২ বছর পর বাংলা সিনেমায় প্রত্যাবর্তন করেছেন বলিউড ও টলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রাখী গুলজার। তাঁর অভিনীত নতুন ছবি “আমার বস”, যা পরিচালনা করেছেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি, মুক্তি পেয়েছে গত ৯ মে। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসার বন্যা বইছে।
"আমার বস" একটি আবেগঘন পারিবারিক গল্প যেখানে চাকরি জীবনের চাপে বিপর্যস্ত এক নারী এবং তার অফিসের বসের মানবিক রূপ উঠে এসেছে। সিনেমার কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাখী গুলজারের চরিত্র—এক বয়স্ক, সংবেদনশীল অথচ দৃঢ়চেতা মহিলা, যিনি অফিস সংস্কৃতিতে একটি অনন্য মানবিক বার্তা পৌঁছে দেন।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মতে, রাখী গুলজার যেন আবার প্রমাণ করলেন—সময় তাঁর শিল্পকে ছুঁতে পারেনি। তাঁর চোখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরণ এবং উপস্থিতি—সব কিছুতেই মুগ্ধ দর্শকরা।
কলকাতার এক দর্শকের কথায়, “এমন অভিনয় অনেক দিন পর দেখলাম। রাখীজি যেন পর্দায় এক জীবন্ত বাস্তবতা।”
নন্দিতা ও শিবপ্রসাদ তাঁদের পরিচিত পারিবারিক, বাস্তবধর্মী গল্প বলার ধারা বজায় রেখেছেন। দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে যাওয়ার মতো চিত্রনাট্য, দৃশ্যপট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছবিকে করেছে স্মরণীয়।
মাত্র সাত দিনের মধ্যেই কলকাতা এবং শহরতলির বহু প্রেক্ষাগৃহে ‘হাউসফুল’ বোর্ড ঝুলছে। বক্স অফিসে ছবি ইতিমধ্যেই ₹৬ কোটি টাকারও বেশি ঘরে পৌঁছে গেছে, যা একটি আর্ট হাউস ঘরানার সিনেমার জন্য উল্লেখযোগ্য।
চলচ্চিত্র মুক্তির পরে এক সাক্ষাৎকারে রাখী গুলজার বলেন, “বাংলা ভাষা ও বাংলা দর্শকের ভালোবাসা আমার হৃদয়ের খুব কাছের। আবার এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অভিভূত।”
“আমার বস” শুধুমাত্র রাখী গুলজারের প্রত্যাবর্তনের ছবি নয়, এটি এক নতুন সামাজিক বার্তা বহনকারী আবেগঘন চলচ্চিত্র। এই ছবি প্রমাণ করেছে, ভাল গল্প, শক্তিশালী অভিনয় ও সংবেদনশীল পরিচালনা এখনও বাংলা সিনেমার দর্শকদের মন জয় করতে পারে।

