পিয়া রায়
প্রতি বছর মে মাসের তৃতীয় শুক্রবার পালিত হয় National Endangered Species Day। এই দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর বিপন্নপ্রায় প্রজাতিগুলোর প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরা।
আমাদের গ্রহে প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বন উজাড়, অবৈধ শিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপের কারণে বহু প্রজাতি আজ বিলুপ্তির মুখে। ভারতেও এমন বহু প্রাণী আছে যারা এখন বিপন্ন বা মহাবিপন্ন তালিকায় স্থান পেয়েছে—যেমন, রাজ্যপাখি ভারতের ময়ূর, বেঙ্গল টাইগার, এশিয়ান লায়ন, গাঙ্গেয় ডলফিন, হর্নবিল, এমনকি কিছু অর্কিড ও গাছের জাতও বিপন্ন।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে ব্ল্যাক রাইনো, স্নো লেপার্ড, অরাংওটাং, এবং সুমাত্রান টাইগার। এই প্রাণীগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়লে শুধু একটি প্রজাতি নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার বিষয়টি শুধু বনবিভাগ বা পরিবেশবিদদের কাজ নয়, এটি আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একটি পাখি যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তার প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর যে প্রভাব পড়ে তা হয়তো আমরা তাৎক্ষণিক বুঝি না, কিন্তু ধীরে ধীরে এর প্রভাব আমাদের কৃষি, খাদ্য, ও জলবায়ুতে পড়বে।
ভারতে সরকারের পক্ষ থেকে Wildlife Protection Act, 1972, Project Tiger, Project Elephant, ও Biosphere Reserves-এর মতো বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। পাখি বা পশুপাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস করে যদি আমরা রিসোর্ট বানাই, কিংবা বনাঞ্চলে প্লাস্টিক ছড়িয়ে রাখি, তাহলে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে। শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই জানে কেন একটি বাঘ বা গরুড় পাখি আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। National Endangered Species Day আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আজ যে প্রাণীগুলি নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে, কাল তাদের জায়গায় আমরাও হতে পারি। তাই এখনই সময়—প্রকৃতিকে ভালোবাসি, প্রাণীকুলকে রক্ষা করি।


