পিয়া রায়
প্রতি বছর মে ও অক্টোবর মাসে পালিত হয় বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস (World Migratory Bird Day)। এই দিনটি পাখিপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতন মানুষদের একত্রিত করে একটি সাধারণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য—পরিযায়ী পাখিদের সুরক্ষা আমাদের পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিযায়ী পাখিরা বছরে দুইবার—বসন্ত ও শরৎকালে—তাদের মূল আবাসস্থল ছেড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে উষ্ণ বা উপযুক্ত পরিবেশে চলে যায়। এই যাত্রা শুধুই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে নয়, খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজননের জন্যও তারা এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। ভারতের সুন্দরবন, পশ্চিমবঙ্গের চিল্কা হ্রদ কিংবা কলকাতার নিকটবর্তী সংরক্ষিত জলাভূমিগুলোতে শীতকালে যে অসংখ্য বিদেশি পাখির দেখা মেলে—তারা প্রত্যেকেই একেকজন পরিযায়ী পাখি।
এই পাখিরা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য করে, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। কিন্তু জলাভূমি ধ্বংস, বনায়ন কাটা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিকার ও দূষণের কারণে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।
বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবসের মূল লক্ষ্য হল—এই পাখিদের যাত্রাপথকে নিরাপদ রাখা, তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এবছরের থিম হল “Protect Insects, Protect Birds”, অর্থাৎ “পোকামাকড় বাঁচান, পাখি বাঁচান”—কারণ পরিযায়ী পাখিদের খাদ্যচক্রের একটি বড় অংশই পোকামাকড় নির্ভর।
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, পরিবেশ সংস্থা ও বার্ড ওয়াচিং গ্রুপ এই দিবস উপলক্ষ্যে নানা রকম সচেতনতা অভিযান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে। এটি শুধু পাখি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা নয়, একটি বড় পরিবেশ আন্দোলনের অংশ।
পরিযায়ী পাখিদের রক্ষা করতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বও রয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ কমানো, জলাভূমি সংরক্ষণ, গাছ লাগানো, এবং পাখিদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ অক্ষুণ্ণ রাখা আজ সময়ের দাবি।
বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস শুধুমাত্র একটি উদযাপন নয়, বরং একটি প্রতিশ্রুতি—এই দুর্বল অথচ সুন্দর প্রকৃতির দূতদের আমরা ভালবাসি, তাদের সুরক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


