যোগমায়া আচার্য
প্রতি বছর ১১ মে তারিখে জাতীয় প্রযুক্তি দিবস (National Technology Day) পালিত হয় ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রগতির স্মরণে। এই দিনটি শুধুমাত্র একটি উদযাপন নয়—এটি ভারতের আত্মনির্ভর প্রযুক্তি শক্তি, উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক চেতনার জয়গান।
১৯৯৮ সালের ১১ মে, ভারতের পোখরানে সফলভাবে পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল, যার নাম ছিল ‘অপারেশন শক্তি’। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির কাতারে যুক্ত হয় এবং এই ইতিহাসগর্ব দিনটিকে ১৯৯৯ সাল থেকে ‘জাতীয় প্রযুক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক এবং প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের প্রতি একধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
প্রযুক্তির উন্নতি আজ আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবহন, শিল্প—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির স্পর্শ আমাদের জীবনকে সহজ, দ্রুত ও উন্নত করেছে। আজ মোবাইল ফোনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ঘরে বসে টেলিমেডিসিন, রিমোট লার্নিং, কৃষিক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি, কিংবা মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্রযান—এই সবকিছু ভারতীয় প্রযুক্তির অব্যাহত সাফল্যের চিহ্ন।
এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেই সমস্ত বিজ্ঞানীদের, যাঁদের পরিশ্রম ও মেধায় ভারত প্রযুক্তির শিখরে পৌঁছেছে—ড. এ পি জে আব্দুল কালাম, ড. হোমি ভাভা, বিক্রম সারাভাই প্রমুখ। তাঁদের দেখানো পথেই ভারত আজ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিশা দেখাচ্ছে গোটা বিশ্বকে।
জাতীয় প্রযুক্তি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হল—প্রযুক্তিকে শুধু উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, বরং একটি সামাজিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। আজকের প্রজন্মের কাছে এই দিনটি এক প্রেরণার উৎস। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থায় এই দিনে আয়োজন করা হয় সেমিনার, প্রদর্শনী, ওয়েবিনার ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয় নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের পথে হাঁটতে।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি কেবল বিলাসিতা নয়—এটি প্রয়োজন ও প্রতিরক্ষা উভয়ের রূপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি (IT), জৈবপ্রযুক্তি (Biotech), এবং নবায়নযোগ্য শক্তি—এই ক্ষেত্রগুলিতে ভারত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এর নৈতিক ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করাই হবে এই দিবসের আসল সফলতা।
জাতীয় প্রযুক্তি দিবস আমাদের শেখায়—স্বপ্ন দেখো, উদ্ভাবন করো, এবং নিজের দেশকে প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত করো। আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের প্রযুক্তিবিদ।


