পিয়া রায়
বিশ্ব মা দিবস (Mother's Day) প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারে পালিত হয়। এটি শুধু একটি দিন নয়—এটি মাতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর, মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগকে সম্মান করার এক অনন্য উপলক্ষ। মায়ের অবদান এতটাই নিঃশব্দ, অথচ এত গভীর যে তা প্রতিদিনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে থাকে। তবুও একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে যেন আমরা সকলে একসাথে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে পারি।
শিশুর প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু, প্রথম আশ্রয়—সব কিছুতেই মায়ের নাম জড়িয়ে থাকে। ঘুম ভেঙে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানো থেকে শুরু করে রাত জেগে সন্তানের সেবায় নিয়োজিত থাকা—সবই মায়ের প্রতিদিনকার রুটিন। এমনকি সন্তানের জীবনে সাফল্য এলেও মা নিজেকে পেছনে রাখেন, সন্তানের অর্জনেই খুঁজে নেন নিজের আনন্দ।
আধুনিক সমাজে নারীর ভূমিকা বহুমাত্রিক হয়েছে। কর্মজীবী মা, একক মা, দাদিমা-মা কিংবা দত্তক মা—সবাই মাতৃত্বের অনন্য রূপ। মাতৃত্ব মানেই শুধু জন্মদাত্রী হওয়া নয়, বরং একটি শিশুর জীবন গড়ে তোলার গভীর যত্ন ও দায়িত্ব গ্রহণ করা। আজকের দিনে আমরা সেই সব মায়েদের কথাও স্মরণ করি, যারা জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাদের সন্তানদের জীবন আলোকিত করে তুলেছেন।
মা দিবসকে কেন্দ্র করে আজ নানা দেশে পালন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। কেউ মায়ের জন্য রান্না করে, কেউ চিঠি লেখে, কেউবা একটি ছোট্ট উপহার দিয়েই মায়ের মুখে হাসি ফোটায়। স্কুল, কলেজ, ও সামাজিক সংগঠনগুলোতেও আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন, কবিতা পাঠ ও নাটকের অনুষ্ঠান—যেখানে মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে শিল্পের মাধ্যমে।
বাংলার সাহিত্য, গান ও সিনেমাতেও মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে বারবার। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ—সবাই তাদের লেখায় মায়ের ছায়াকে তুলেছেন দেবীর সমান। মায়ের ভালোবাসা যেন এক অলৌকিক আশীর্বাদ, যা জীবনের সমস্ত দুঃখকে নিঃশব্দে দূর করে দিতে পারে।
এই মা দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক—শুধু একদিন নয়, প্রতিদিন মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও যত্নের মনোভাব পোষণ করব। মাকে সময় দেব, তাঁর কথা মন দিয়ে শুনব, এবং তাঁর ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
কারণ মা শুধুই একজন মানুষ নন, তিনি একজন অনুভূতি—যাঁর ভালোবাসা আমাদের অস্তিত্বের গভীরে প্রোথিত।


