ছন্দা আচার্য
আজকের দৌড়ঝাঁপের যুগে আমরা প্রায়শই ভুলে যাই—জীবনের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ধীর গতিতে হেঁটে যাওয়ার মাঝে। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া World Sauntering Day প্রতিবছর ১৯ জুন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দ্রুতগতির পেছনে না ছুটে একটুখানি থামা, একটুখানি ধীর হওয়া, প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া কতটা জরুরি। এই দিনটি যেন আমাদের জীবনধারায় এক সজীব আহ্বান—“একটু হেঁটে দেখো, প্রকৃতি তোমার সঙ্গেই হাঁটে!”
হাঁটাহাঁটি শব্দটি অনেকের কাছে সাধারণ মনে হলেও, এটি এক গভীর দর্শনের প্রতীক। Saunter মানে শুধু হাঁটা নয়, বরং তা হলো মনোযোগ দিয়ে, উপভোগ করে, সময় নিয়ে পথ চলা। এই হাঁটা কোনও গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য নয়, বরং হাঁটার মধ্যেই এক আনন্দ, এক উপলব্ধি। আজকের মানুষ যেখানে সবকিছু করতে চায় দ্রুত, সেখানে এই Sauntering হলো এক ধীর সৌন্দর্যের চর্চা। এটি এমন এক অভ্যাস, যা মানসিক চাপ কমাতে, হৃদয়কে শান্ত করতে এবং চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগে সহায়তা করে।
==========
‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ আবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। অনুগ্রহ করে ফেসবুক পেজটি লাইক করুন এবং ইনবক্সে আপনার মূল্যবান পরামর্শ ও মতামত জানান।
==========
বিশ্বজুড়ে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, ডিটক্স ট্রেন্ডের ভিড়ে ‘হাঁটাহাঁটি’ এক অবহেলিত অথচ চমৎকার জীবনচর্চা। শহরের কংক্রিট জঙ্গলের মাঝে হাঁটা শুধু শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং মনের অস্থিরতা দূর করতেও অসাধারণ কার্যকর। হাঁটার সময় পাখির ডাক শোনা, গাছের পাতায় আলো-ছায়ার খেলা দেখা, রাস্তায় মানুষের হাসিমুখ—এইসব মুহূর্ত আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।
Sauntering-এর মাধ্যমে আমরা নিজের সাথে সংযোগ স্থাপন করি। ফোনে মুখ গুঁজে থাকা নয়, কানে হেডফোন গুঁজে নয়, বরং চোখে চোখ রেখে প্রকৃতিকে দেখা, নিজের নিঃশ্বাস অনুভব করা—এই ছোট্ট কাজটাই জীবনের মানে বদলে দিতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যারা প্রতিদিন ৩০ মিনিট মনোযোগ দিয়ে হাঁটে, তারা হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকে অনেকটা মুক্ত থাকেন। হাঁটা শুধু শরীরকে নয়, আত্মাকে নিরাময় করে।
আজ World Sauntering Day-তে চলুন আমরা সকলে একটু থামি। কাজের ব্যস্ততার মাঝে, ফোনের স্ক্রল থামিয়ে, একবার নিজের পা দিয়ে পথ মেপে দেখি। পাশের গাছটি কবে ফুল দিয়েছে, পাখিগুলোর গান কেমন শোনায়, সন্ধ্যাবেলার বাতাসে কেমন এক শান্তি—এইসব অনুভব করে দেখি। কারণ, জীবন একটা গন্তব্য নয়, এটা এক দীর্ঘ হাঁটাহাঁটি, যেখানে প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি মুহূর্তেই রয়েছে উপভোগ করার উপাদান।
আজকের দিনে এই বার্তাটুকু গ্রহণ করি—সবসময় ছুটতে নেই। মাঝে মাঝে ধীর হওয়া, হাঁটা, থেমে দেখা—এইগুলো দিয়েই গড়ে ওঠে জীবনের আসল গল্প। World Sauntering Day আমাদের শেখায়—“বাঁচতে হলে হাঁটতে হবে, কিন্তু তা যেন হয় একটু ধীরে, একটু মন দিয়ে।”

