পিয়া রায়
প্রতিবছর ১৮ জুন পালিত হয় অটিজম গরিমা দিবস— যে দিনটি অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা ব্যক্তিদের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা ও অনন্যতা উদ্যাপন করে। অটিজম হলো মানুষের প্রকাশ ও প্রকাশিত হবার একটা বিশেষ ধরন, যা আলাদা হলেও অপরিপূর্ণ বা ঘাটতিপূর্ণ নয়— বরং মানব বৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ।
অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা ব্যক্তিরা অনন্য ও বিশেষ— তাদের রয়েছে অনন্য চিন্তার ধরন, অমৃতসম স্মৃতি, অসাধারণ কলা বা গানে প্রকাশিত আবেগ, ও অঙ্ক বা বিজ্ঞানে দুর্দান্ত পারদর্শিতা। তাদের আলাদা পথ ও প্রকাশকে স্বীকৃতি দেওয়াই অটিজম গরিমা দিবসের মূল কথা— সবাই মিলে বিশ্বাস করাই যে অটিজমও একটা স্বাভাবিক ও সুন্দর মানব অভিজ্ঞতা।
সমাজে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে অটিজম সম্পর্কে— যেমন অটিজম মানে অসুস্হতা বা অমঙ্গল। কিন্তু বাস্তবে অটিজম হলো মস্তিষ্কের তথ্যপ্রক্রিয়ার একটা আলাদা বিন্যাস। ঠিক যেমন কারো রয়েছে গান গাওয়ার বিশেষ গলা, কারো রয়েছে অঙ্কে অমিতপ্রজ্ঞা— অটিজমও সেই বিশেষত্বগুলির মধ্যেই একটা।
অটিজম গরিমা দিবস সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চায় যে অটিজম স্পেক্ট্রামে রয়েছে অপরিসীম সম্ভাবনা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা। তাই তাদেরকে আলাদা বা বাইরে রেখে দেওয়া ঠিক না— বরং তাদের সাথে মিশে, তাদের কথা শুনে ও তাদের প্রকাশকে উৎসাহিত করাই উচিত। পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বন্ধু ও সমাজের সবাই মিলে অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা ব্যক্তিদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রকাশকে সমর্থন দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা সবাই সমান সুযোগ পেলে ও উপযুক্ত পরিবেশে বড় হলে তারা অসাধারণ কিছু করতে পারে— কলা, গান, সাহিত্য, উদ্ভাবন বা নেতৃত্বে। অটিজম মানে দুর্বলতা বা ঘাটতি না— বরং আলাদা প্রকাশ ও সম্ভাবনার উৎস।
অটিজম গরিমা দিবস হলো সেই দিন, যে দিন সবাই মিলে অঙ্গিকার করি যে অটিজম স্পেক্ট্রামে থাকা ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা অম্লান থাকবে, তাদের কথা সবাই গুরুত্ব দিয়ে শুনবে ও মূল্য দেবে। তাদের আলাদা প্রকাশকে উদ্যাপন করাই হোক ভালোবাসা ও অন্তর্ভুক্তির পথচলা।
চলুন সবাই মিলে অটিজম স্পেক্ট্রামের অনন্যতা উদ্যাপন করি— ভালোবাসা, মর্যাদা ও বিশ্বাসে গড়ে তুলি এক সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব, যে বিশ্বে সবাই প্রকাশিত হতে পারে নিজের আলোকে।

