ছন্দা আচার্য
প্রতিবছর ১৭ মে তারিখে পালিত হয় World Telecommunication and Information Society Day। এই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) উন্নয়ন এবং তার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে। ১৮৬৫ সালের এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU), যা আজও টেলিকম সেক্টরের বৈশ্বিক সমন্বয়কারী সংস্থা।
টেলিকমিউনিকেশনের ঐতিহাসিক পথচলা:
টেলিকমিউনিকেশনের ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ ও চমকপ্রদ। টেলিগ্রাফ থেকে শুরু করে টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন এবং আজকের ইন্টারনেট—প্রযুক্তির এই বিবর্তন মানুষের জীবনকে দিনদিন আরও সহজ ও সংযুক্ত করেছে। একসময় দূরের আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যেখানে দিনের পর দিন লাগত, এখন ভিডিও কলেই মুহূর্তে চোখের দেখা হয়।
ভারতে টেলিকম বিপ্লব:
ভারতেও টেলিকম সেক্টর এক বিপ্লবের সাক্ষী। মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক ডেটা পরিষেবা, এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ ও শহুরে জীবনে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আজ গ্রামীণ কৃষকও আবহাওয়ার খবর পেতে বা ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং করতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।
সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ:
টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও প্রশাসন সবক্ষেত্রেই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। টেলিমেডিসিন, অনলাইন ক্লাস, ই-কমার্স—সবকিছুই তথ্য প্রযুক্তির উপহার। তবে এই অগ্রগতির সঙ্গেই এসেছে কিছু চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল বিভাজন, সাইবার অপরাধ, গোপনীয়তার ঝুঁকি—এসব বিষয় আমাদের সদা সচেতন করে তুলছে।
২০২৫-এর প্রতিপাদ্য ও গুরুত্ব:
২০২৫ সালের থিম "Empowering the Digital Generation", অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল জ্ঞান ও সুযোগ দিয়ে শক্তিশালী করে তোলা। এ লক্ষ্যেই দরকার সবার জন্য সুলভ ইন্টারনেট, সাইবার নিরাপত্তা, এবং প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণ।
উপসংহার:
বিশ্ব টেলিকম দিবস কেবল প্রযুক্তির উৎকর্ষতা উদযাপন করার দিন নয়, বরং এটি আমাদের কাছে একটি অঙ্গীকারের দিন—যেখানে প্রযুক্তি হবে সবার জন্য, সবার নাগালের মধ্যে। তাই আসুন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে গড়ে তুলি একটি আরও সংযুক্ত, সমতাভিত্তিক ও উদ্ভাবনী বিশ্ব।
প্রযুক্তির স্পর্শে এগিয়ে যাক মানবতা, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


