সোমনাথ চৌধুরী
লস্কর-ই-তোইবা ও জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গিসংগঠনের হাতে সরাসরি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার অর্থাৎ আইএমএফের দেওয়া অনুদানের টাকার একাংশ কি তুলে দিচ্ছে এমনটাই গোপন বার্তা পেয়েছে ভারত সরকার।
আর সেই আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার কে ভারত সরকার আবেদন করতে চলেছে যে ,যে বিপুল পরিমাণের অর্থ পাকিস্তানকে স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স হাতে দেওয়া হয়ে থাকে তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। পাকিস্তান যাতে আগামী দিনে এই ধরনের অর্থ সাহায্য না পায় সেই আবেদনও করবে ভারত।
আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সংঘাতের আবহে বিশেষ বৈঠক ডেকে পাকিস্তানের জন্য ১০০ কোটি ডলারের সহায়তার অনুমোদন করেছে ।উক্ত অনুদানের অর্থ যাতে পাকিস্তানকে না, দেওয়া হয়,সেই দাবিও করেছিল ভারত। ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত থাকে ভারত,তাতে অবশ্য কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আর এই ঘটনায় ভারত রীতিমত ক্ষুদ্ধ ।
আরে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে গেল শুক্রবার,প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বার্তায়। অপারেশন সিন্দুর সাফল্যে বায়ুসেনাকে সাধুবাদ জানাতে তিনি গুজরাটের ভুজে এয়ারফোর্স স্টেশনে পৌছান।
আর সেখানেই তিনি বলেন,আইএমএফ (IMF) - এর অনুদান হিসেবে দেওয়া টাকা পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কে দেবে।এরকম বারংবার হয়েছে,এটা যেন আইএমএফ কর্তৃপক্ষ মনে রাখে। স্বয়ং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর প্রকাশ্যে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ। এতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে এই সংক্রান্ত প্রমাণ ভারতের হাতে রয়েছে।
১৯৫৮ সাল থেকে লাগাতার অর্থ সংকট এবং অর্থনীতির ভেঙ্গে পড়ার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান আইএমএফ-এর থেকে অর্থ সাহায্য চেয়েছে এবং পেয়েছে ।এবারও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান জঙ্গি পাঠিয়ে নিশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তার যাবতীয় তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরেছে ভারত। তা সত্ত্বেও ১০০ কোটি ডলার পাকিস্তানকে এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি প্রকল্পের অধীনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার অর্থাৎ আইএমএফ।
পাশাপাশি রেজিলিয়ান্ট অফ সাস্টেইনিবিলিটি খ্যাতে আরও ১৫০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে । এই অর্থ দেওয়ার কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন করতে এই অর্থ পাকিস্তান ব্যবহার করবে। সত্যিই কি পাকিস্থানে এমনটা হচ্ছে? নাকি ভবিষ্যতে হবে?
আইএমএফ-এর অর্থ অনুদান ঘোষণার পরেই পাকিস্তান ঘোষণা করেছে,ভারতের প্রত্যাঘাতে মৃতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে,অর্থাৎ অনুদান হিসেবে ১৪ কোটি পাবে জায়েশ সুপ্রিমো মাসুদ আজহার ।
পাকিস্তানের অর্থনীতির ধস নেমেছে ,১৯৫৮ সাল থেকে খাদের কিনারায় গিয়েছে তাদের অর্থনীতি ।নানা বিধি খাতে আইএমএফ(IMF) অর্থ সাহায্য দিয়েছে। কিন্তু সেই ঋণ কোনদিনও পাকিস্তান মেটায় নি।শুধু ভারত নয়, এবার বিভিন্ন দেশ প্রশ্ন তুলেছে আবার পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য দেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে।
এদিন রাজনাথ সিং সরাসরি আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার অর্থাৎ আইএমএফকে অনুরোধ করেছেন,তারা যেন খতিয়ে দেখে,এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে।

