যোগমায়া আচার্য
বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১৯ মে পালিত হয় Hepatitis Testing Day, যার মূল লক্ষ্য হলো হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং নিয়মিত টেস্টের গুরুত্ব তুলে ধরা। হেপাটাইটিস একটি ভয়ানক ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ যা মানুষের লিভারকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়। বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও, অনেকে তা বুঝতেই পারেন না—এ কারণেই একে বলা হয় "নীরব ঘাতক"।
হেপাটাইটিস কী?
হেপাটাইটিস মূলত পাঁচ ধরনের হয়—A, B, C, D এবং E। এর মধ্যে হেপাটাইটিস B এবং C সবচেয়ে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী, যেগুলো লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে। সংক্রমণের পর অনেক সময় লক্ষণ ধরা পড়ে না, ফলে রোগটি অনেক দূর এগিয়ে যায়।
কেন টেস্টিং এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাথমিক অবস্থায় হেপাটাইটিস ধরা পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ বা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু যেহেতু অনেকেই উপসর্গহীন অবস্থায় ভাইরাস বহন করেন, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং বা রক্ত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, স্বাস্থ্যকর্মী, রক্ত গ্রহণকারী রোগী এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
ভারতের প্রেক্ষাপটে বাস্তব চিত্র
ভারতে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে, অনেকেই এই রোগটির পরীক্ষা করান না বা গুরুত্ব দেন না। সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি থাকলেও তা পৌঁছায় না প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ‘Hepatitis Testing Day’ এমন একটি সময় যখন জনসচেতনতা ও টেস্টিং ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগানো সম্ভব।
প্রতিরোধই উত্তম প্রতিকার
# শিশুদের জন্মের পর হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেওয়া
# নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা
# যৌন সচেতনতা বজায় রাখা
# ইনজেকশনের সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার না করা
এসব পদক্ষেপ মেনে চললেই হেপাটাইটিস প্রতিরোধ সম্ভব।
শেষ কথা
Hepatitis Testing Day আমাদের মনে করিয়ে দেয়—"অদৃশ্য রোগ যতটা ভয়ংকর, ততটাই প্রতিরোধযোগ্য"। একবার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া আপনার এবং পরিবারের সুস্থ ভবিষ্যতের দিশা দিতে পারে। তাই আজকের দিনে আসুন আমরা সকলে একসঙ্গে প্রতিজ্ঞা করি—"নির্বিচারে নয়, সচেতন জীবন বেছে নেব। সময় থাকতেই হেপাটাইটিস টেস্ট করাবো।"


