সোমনাথ চৌধুরী
মূলত, প্রতিটি রাজ্যের নীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ নির্ধারিত হয়, এর ফলেই এই বৈষম্য পরিলক্ষিত হয় ।
সরকারি
কর্মচারীদের জন্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মহার্ঘ ভাতা প্রদান নীতিতে
উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যায় সামলাতে
মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের সাহায্য করে। বর্তমানে ৫৫% হারে কেন্দ্রীয়
সরকার ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করে, যা দেশের অধিকাংশ রাজ্যে অনুসরণ
করা হয়।
বাংলায় তথা
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ১৮% হারে ডিএ(DA) পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা ।২০২৫
সালের ১লা এপ্রিল থেকে রাজ্য সরকার ৪% মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করে,ডিএ
প্রদানের হার ১৪% থেকে বেড়ে ১৮%পৌঁছায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ৫৫% হারের
তুলনায় এটি অনেক কম যার ফলে অসন্তোষ বিরাজ করে রাজ্যের কর্মচারীদের
মধ্যে।
উল্লেখ্য, দেশের শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম
কোর্ট ২০২৫ সালের ১৬ই মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেয় যে ২০০৬ থেকে ২০১৫
সালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ-এর ২৫% তিন মাসের মধ্যে প্রদান করতে
হবে। উক্ত নির্দেশের ফলে ১০,৪৪২.৭৩ কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে পরিশোধ করতে
হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি মাসের আগষ্ট মাসে নির্ধারিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত,
দেশের অন্যান্য রাজ্যে মহার্ঘ ভাতা প্রদানের হারের পার্থক্য স্পষ্ট ,৫৫%
হারে ডিএ প্রদান করে গোয়া, গুজরাট, ঝাড়খন্ড,মধ্যপ্রদেশ, উড়িষ্যা,
রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ সহ আসাম।
৫৩%
মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ প্রদানকারী রাজ্য তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ু, ৫০%
ডিএ প্রদান করে বিহার, ছত্তীসগঢ় সহ সিকিম । ৪০% থেকে ৪৬% মহার্ঘ ভাতা
প্রদান করে হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, মেঘালয়, মিজোরাম সহ পাঞ্জাব। ৩৯% ডিএ
প্রদান করে মনিপুর ,ত্রিপুরা ৩৩%,অন্ধ্রপ্রদেশ ৩০%,পশ্চিমবঙ্গ ১৮% ও
১৫%কেরালা। সর্বোচ্চ মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানকারী রাজ্য (বকেয়া সহ)
মহারাষ্ট্র ৪৫৫% ও নাগাল্যান্ড ২৫২%।
উল্লেখ্য,
মহার্ঘ ভাতার এই বৈষম্যের কারণে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে
আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের সমান
হারে মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে
তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তবে কেন্দ্র সরকারের মহার্ঘ ভাতা প্রদানের
হারের সাথে রাজ্যের সম্পূর্ণ সমতা অর্জনে আরো পদক্ষেপের প্রয়োজন ।

