Select language to read news in your own language

গাছ চুরির অভিযোগ, বিতর্কে জড়ানো বিট অফিসারকে বাঁচাতে আউশগ্রামে ছুটে এলেন ডিএফও!


রাবণ মণ্ডল
 
আউশগ্রাম:
অভিযুক্ত বিট অফিসারকে বাঁচাতে শনিবার আজেলার একমাত্র জঙ্গলমহল এলাকা আউশগ্রামের অরণ্য সুন্দরী নামে খ্যাত অমরপুর, রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ জঙ্গল মহল এলাকাটি। বছর দশেক আগে কাঁকসার গড়কেল্লার জঙ্গল এলাকার দেউলের রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকা থেকে আউশগ্রামের আদুরিয়া এলাকায় চলে আসে কয়েকটি ময়ূর। তারপরই পানাগড় রেঞ্জ এলাকার আদুরিয়া জঙ্গলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে বনদপ্তর। বিগত কয়েক বছরে আউশগ্রামে ময়ূরের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। অমরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে মানুষের বাড়ি বাড়ি দেখা মিলত ময়ূরের দলের! সেই হিরিকে আউশগ্রামে বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়ও। এবার বর্ষার ঠিক আগে থেকেই দেখা মিলছে না ময়ূরের! পর্যটকরা আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে ঘুরতে এসে ময়ূর দেখার জন্য জালিকাঁদর, আদুরিয়া, হেদগড়া, আকুলিয়া, পাথরকুচি, মুচিপাড়া, কালিকাপুর জঙ্গলে ঘুরেও মিলছে না ময়ূরের দেখা। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, পানাগড় রেঞ্জ অফিসারের অধীনে আদুরিয়া বিট অফিসার হয়ে এসেছেন পিনাকী ভট্টাচার্য নামের একজন আধিকারিক! তার গাফিলতির কারনেই এবার গ্রীষ্মের আগুনে পুড়ে গেছে ময়ূরের ডিম। ফলে পালিয়েছে জঙ্গল ছেড়ে ময়ূরের দল। পাথরকুচির বাসিন্দা প্রশান্ত পাল বলেন, 'এবার সব থেকে বেশি আগুন লাগানো হয়েছে জঙ্গলে। বনদপ্তরের এই আধিকারিক তেমন জঙ্গল রক্ষায় সচেতন ছিলেন না! ফলে আমাদের ধারণা বেশকিছু ময়ূর সেই আগুনে মারা যাওয়ার কারণে, তাদের দল ভয়ে পালিয়ে গেছে অন্যত্র।'
জঙ্গল লাগোয়া আদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তপন দাস বলেন, 'এবার বর্ষায় ময়ূরের নাচতে দেখা যাচ্ছে না। তেমন ভাবে ময়াল সাপেরও দেখা মিলছে না। নতুন আদুরিয়ার আধিকারিক পিনাকী ভট্টাচার্য তেমন জঙ্গলের রক্ষণাবেক্ষণে মন নেই। তিনি অন্য রকমের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে আমাদের স্বপ্নের জঙ্গল ধ্বংসের মুখে।'
জালিকাঁদরের বাসিন্দা বিধান কর্মকার বলেন, 'আমাদের বনে নীচের ঝাঁটি গাছ গুলোও কেটে চুরি হয়ে গেছে। ফাঁকা হয়ে গেছে ময়ূরের ডিম পারার জায়গা। এবার সব থেকে আগুন লেগেছিল। এটিও একটা কারণ। ময়ূরের জন্যই এই এলাকায় পর্যটক আসে। বর্ষার সকালে বহু বাইরের মানুষ আসেন। এবার মনখারাপ নিয়ে ফিরছেন তারা।' 
স্থানীয়দের নজরে আসে মাস খানেক আগেই। তেমন ময়ূরের দেখা নেই। তবে পুরনো দিনের ডিমের ছবি পোস্ট করে আদুরিয়া ফরেস্টের ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা! 
সত্যিই কি ময়ূর নেই। তার অন্তরতদন্তে গিয়ে ছিলাম আমরা। হেদগড়া ক্যানেল পাড়ের যে জায়গায় ময়ূরের দল ঘুরতো, সেখানেও নেই। তাতেই আশ্চর্য হতে হয়।উশগ্রামের আদুরিয়া বিট এলাকায় ছুটে এলেন জেলা ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা। সূত্রের খবর, এক অংশের সংবাদ মাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে এদিন তিনি তার বিট অফিসার পিনাকী ভট্টাচার্য ও তার বিরুদ্ধের সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। এবং বলেন এ সব ভিত্তিহীন অভিযোগ! এর আগে জেলার একমাত্র প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র বর্ধমানের রমনাপার্কের শতাব্দী প্রাচীন গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে! বনদপ্তরের এক অংশের অভিযোগ, সে বিষয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পরেছে। তবুও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সে তদন্তে গতি নেই! বনদপ্তরের এক অংশের আধিকারীকদের অভিযোগ, 'সঞ্চিতা শর্মার অনৈতিক কাজে সমর্থন না করলেই তাকে বদলী করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, পিনাকীদের মতো অভিসারদের দিয়ে তিনি গাছ চুরি, মাটি চুরি থেকে জঙ্গলের সমস্ত অনৈতিক কাজ করাচ্ছে। আর তার বিরোধিতা করলেই বদলি করা হচ্ছে। আটকে গ্যারেজ করা হচ্ছে বনহীন জায়গায়। ' জেলার একমাত্র জঙ্গলমহল এলাকা আউশগ্রামের অরণ্য সুন্দরী নামে খ্যাত অমরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, ও রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ জঙ্গল মহল এলাকাটি। বছর দশেক আগে কাঁকসার গড়কেল্লার জঙ্গল এলাকার দেউলের রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকা থেকে আউশগ্রামের আদুরিয়া এলাকায় চলে আসে কয়েকটি ময়ূর। তারপরই পানাগড় রেঞ্জ এলাকার আদুরিয়া জঙ্গলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে বনদপ্তর। বিগত কয়েক বছরে আউশগ্রামে ময়ূরের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রায় ১১০০ ছাড়িয়ে ছিল বলে জানা যায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক অফিসারের সময়ে আদুরিয়াতে ময়ূরের সংখ্যা। গত কয়েক বছর অমরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে মানুষের বাড়ি বাড়ি দেখা মিলত ময়ূরের দলের! সেই হিরিকে আউশগ্রামে বেড়েছিল পর্যটকদের ভিড়ও। এবার বর্ষার ঠিক আগে থেকেই দেখা মিলছে না ময়ূরের! পর্যটকরা আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে ঘুরতে এসে ময়ূর দেখার জন্য জালিকাঁদর, আদুরিয়া, হেদগড়া, আকুলিয়া, পাথরকুচি, মুচিপাড়া, ফাঁড়িজঙ্গল, কালিকাপুর জঙ্গলে ঘুরেও মিলছে না তেমন ময়ূরের দেখা আগের মতো। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, পানাগড় রেঞ্জ অফিসারের অধীনে আদুরিয়া বিট অফিসার হয়ে এসেছেন পিনাকী ভট্টাচার্য নামের একজন আধিকারিক! তার গাফিলতির কারনেই এবার গ্রীষ্মের আগুনে সর্বাধিক পুড়ে ছিল জঙ্গল! সে সময়ের অভিযোগ, পুড়ে গেছে ময়ূরের ডিম বহু ডিম। ফলে আতঙ্কে সে সময়ই জঙ্গল থেকে পালিয়েছে ময়ূরের দল। পাথরকুচির বাসিন্দা প্রশান্ত পাল বলেন, 'এবার সব থেকে বেশি আগুন লাগানো হয়েছে জঙ্গলে। বনদপ্তরের এই আধিকারিক তেমন জঙ্গল রক্ষায় সচেতন ছিলেন না! ফলে আমাদের ধারণা বেশকিছু ময়ূর সেই আগুনে মারা যাওয়ার কারণে, তাদের দল ভয়ে পালিয়ে গেছে অন্যত্র। সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছি বলে তিনি ফোনও করেন।'
জঙ্গল লাগোয়া আদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তপন দাস বলেন, 'এবার বর্ষায় ময়ূরের নাচতে তেমন ভাবে আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। তেমন ভাবে ময়াল সাপেরও দেখা মিলছে না এবার। নতুন আদুরিয়ার আধিকারিক পিনাকী ভট্টাচার্য তেমন জঙ্গলের রক্ষণাবেক্ষণে মন নেই। তিনি অন্য রকমের কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ। ফলে আমাদের স্বপ্নের জঙ্গল ধ্বংসের মুখে।'
জালিকাঁদরের এক বাসিন্দা, পেশায় সরকারী কর্মী বলেন, 'আমাদের বনে নীচের ঝাঁটি গাছ গুলোও কেটে চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফাঁকা হয়ে গেছে ময়ূরের ডিম পারার জায়গা গুলো। মাঠের কীটনাশকে কয়েকটা ময়ূর মারা গেছে। এবার সব থেকে আগুন লেগেছিল। এটিও একটা কারণ। ময়ূরের জন্যই এই এলাকায় পর্যটক আসে। বর্ষার সকালে বহু বাইরের মানুষ আসেন গ্রামে। এবার মনখারাপ নিয়ে ফিরছেন তারা। মুরগির দলের মতো কয়েকটা মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে। বার বার খবর হওয়াতে উঠেপড়ে লেগেছে ময়ূর নিয়ে। আগের অফিসার খাবার দিত। এ শুধু প্রচার চায়।' 
এই ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসে মাস খানেক আগেই। তেমন ময়ূরের দেখা নেই। তবে পুরনো দিনের ডিমের ছবি পোস্ট করে আদুরিয়া ফরেস্টের ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা! সেই সঙ্গে কয়েক জন সাংবাদিককে দিয়ে খবর করিয়ে প্রমাণ করাতে নেমেছে ময়ূর আছে। গাছ কাটা হয়নি।
তবে কি সত্যিই ময়ূর নেই। উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ কেটে চুরিও হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট অফিসার পিনাকী ভট্টাচার্য তেমন পেট্রোলিংও করছেন না। অন্তরতদন্তে গিয়ে উঠে আসে অন্য তথ্য। বনদপ্তরের উদাসীনতায় গাছ কেটে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ।  হেদগড়া ক্যানেল পাড়ের যে জায়গায় ময়ূরের দল ঘুরতো, সেখানেও নেই এখন। চলে গেছে দেবশালা, কেতুগ্রাম, গুসকরাতে। তাতেই আশ্চর্য হতে হয়। 

ads banner


ads banner

Bangla eDaily to resume soon