নরেন্দ্রনাথ কুলে
অবশেষে শিক্ষকরা মার খেলেন পুলিশ ও শাসক দলের বাহিনীর হাতে । অবশ্য তাঁরা এখন শিক্ষক নন । তাই তাঁদের মর্যাদা দিতে হবে এমন তো কোন কথা ছিল না । তাঁদের যোগ্যতা থাকলেও তাঁরা এখন যোগ্যতাহীন । আরে বাপু, যোগ্যতাহীন হলে সেই ভাবেই থাকা উচিত। তা নয়, তাঁরা আন্দোলন করবে । এত বুকের পাটা এ রাজ্যে পায় কি করে । তাঁদের জানা উচিত বুকের পাটা থাকবে প্রশাসনের, বুকের পাটা থাকবে শাসক দলের নেতা, মন্ত্রী আর তাঁদের চামচাদের । এত বড় সাহস চাকরি হারিয়েও তাঁরা বুকের পাটা দেখায় । চাকরি হারিয়েছে যখন, তখন হাত জোড়া করে মিউ মিউ করে বলতে হবে, আপনারাই আমাদের মা-বাপ । আরে জনপ্রতিনিধিরা এখন সমাজের মা-বাপ । পৌরপিতা, পৌরমাতা শব্দগুলো ওঁরা কি জানে না । এমন পিতামাতাদের থেকে তাঁরা অনেক বড়ো যাঁর কাছে যাঁদের কাছে পদহারা শিক্ষকরা দাবি জানাচ্ছে । এ কথা শিক্ষক হয়ে না জানলে এমনভাবে মার তো খেতে হবে । এ রাজ্যের প্রশাসনের প্রমাণ লোপাট করা জলভাত । তাই যতই দাবি কর আন্দোলনে তাতে জল ঢালা তাঁদের পক্ষে কোন ব্যাপার নয় । না, এসব কথা চাকরিহারাদের বলতে নেই। তাঁদের জানা উচিত এ রাজ্যে উন্নয়ন নিয়ে কোন সংশয় নেই। তাই কোন আন্দোলন বরদাস্ত করা হবে না । উন্নয়নে কোন আন্দোলন থাকবে না । সবাই কে জো হুঁজুর হয়ে থাকতে হবে । তুমি শিক্ষক হও আর ডাক্তার হও । সেই উন্নয়নের আলোয় তাই যোগ্যতার প্রশ্ন কিছু নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের যখন শাসকদলীয় নেতারা হুমকি দেন, তখন এমন ঘটনা কোন ঘটনাই নয় ।
চাকরিহারা শিক্ষকরা মার খেয়েছে পুলিশ প্রশাসন স্বীকার করেছেন । তবে তার কারণ যে শিক্ষকরা নাকি ইটপাটকেল ছুড়েছে, তাই তাঁদের মার খেতে হয়েছে । পুলিশ প্রশাসনের এমন অভিযোগ নতুন নয় । সব ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের এমন বিবৃতি থাকে । সরকার বেতন দেয় বলে পুলিশ সরকারের । তাই পুলিশ বাধ্য হয়ে মানুষকে পেটায় । পেটাতে গেলে কারণ দরকার । তাই পুলিশের কাছে কারণ তৈরি করা কোন ব্যাপারই নয় ।
যোগ্যদের চাকরি চলে গেলে শাসকের লজ্জা হয় না । কর্তব্যরত ডাক্তার হাসপাতালে খুন হলে লজ্জা হয় না । শিক্ষক মার খেলে লজ্জা হয় না । এমন উন্নয়নের রাজনীতিতে লজ্জা বলে কিছু থাকে না । তাই যতই দুর্নীতি হোক লজ্জা লাগে না । নির্দ্বিধায় বলা যায় একশো টাকার চোরের থেকে এক টাকার চোর তুলনামূলক সৎ ।
হে শিক্ষকগণ, জেনে রাখুন যে প্রশাসনের জন্য সব হারিয়েছেন, সেই প্রশাসনের কাছে পিটুনি খাওয়া ছাড়া ভালো কিছু আশা আশা করবেন না । এই শাসকের কান দুটো আর নেই যে ।

