পিয়া রায়
প্রতি বছর ১৮ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম দিবস (International Museum Day)। এই দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিউজিয়ামগুলোতে নানা রকম সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্যাপিত হয়। মিউজিয়াম শুধু অতীতের নিদর্শন সংরক্ষণ করেনা, বরং তারা মানুষের ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের অমূল্য জ্ঞান অর্জনে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে।
মিউজিয়ামের গুরুত্ব
মিউজিয়াম হলো ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত সংগ্রহশালা। প্রতিটি জাদুঘর মানুষের জীবনযাত্রা, ইতিহাস, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রকৃতির গুণাগুণ সংরক্ষণ করে রাখে। সেখান থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের পূর্বপুরুষেরা কিভাবে বাঁচতেন, কী চিন্তা করতেন এবং কীভাবে আমাদের বর্তমান সমাজের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
সাংস্কৃতিক ঐক্যের উৎস
মিউজিয়াম বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতির নিদর্শন সংরক্ষণ করে থাকে, যা আমাদেরকে শেখায় মানব সভ্যতার বৈচিত্র্য ও ঐক্যের মূল্য। এই দিনটি মূলত মানুষকে ঐতিহ্যের প্রতি সচেতন করে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। ভারতের মতো বহুসংস্কৃতির দেশগুলিতে মিউজিয়ামগুলি জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
শিক্ষার আধার
মিউজিয়াম শুধু পর্যটক কিংবা গবেষকদের জন্য নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও অমূল্য শিক্ষার স্থান। এখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার মাধ্যমে বইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন করে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও বিজ্ঞানকে আগ্রহের সঙ্গে বোঝার প্রবণতা তৈরি হয়, যা আমাদের সমাজের ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল যুগে মিউজিয়ামের ভূমিকা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মিউজিয়ামগুলি প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্রদর্শনী, ভার্চুয়াল ট্যুর, অনলাইন সংগ্রহশালা তৈরি করছে। এতে বিশ্বজুড়ে মানুষ ঘরে বসেই মিউজিয়ামের সেরা সংগ্রহশালা দেখতে পায়। এটি ঐতিহ্যের বিস্তৃত সঞ্চারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম দিবসের থিম
প্রতিবছর এই দিবসের একটি বিশেষ থিম থাকে, যা মিউজিয়ামের বর্তমান চ্যালেঞ্জ বা ভবিষ্যত লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। ২০২৫ সালের থিম “মিউজিয়াম ও টেকসই উন্নয়ন” বা “প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য রক্ষা” — যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কিভাবে মিউজিয়াম গুলো পৃথিবীর ঐতিহ্যকে টেকসই ও সংরক্ষিত রাখতে পারে।
উপসংহার
আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অতীতের সোনালী স্মৃতি ও শিক্ষা ছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যত গড়া সম্ভব নয়। মিউজিয়াম শুধু ইতিহাস নয়, তা মানবতার এক জীবন্ত পাঠশালা। তাই আসুন, আমরা সবাই ঐতিহ্যের এই আলোকবর্তিকা সমুন্নত রাখি, যাতে আগামী প্রজন্মও ইতিহাসের পাতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলতে পারে।


